সময়কে যে অবহেলা করে তাকে একদিন না একদিন চরম মূল্য দিতেই হবে। তা আপনি যতই মেধাবী হোন না কেন। অনেকেই আছেন যারা পরে করব, এখনো তো সময় আছে এই বলে কাজ ফেলে রাখে, অলসতা করে। আর দিনের পর দিন জীবনের সেরা সুযোগগুলো নষ্ট করেন। আজকের গল্পটা ঠিক তাদের জন্য যারা প্রতিভা রাখে কিন্তু সময়ের মূল্য বোঝে না।
একবার একটি গ্রামে অর্ণব নামের একটা ছেলে তার পরিবারের সঙ্গে থাকতো। অর্ণব পড়াশোনায় ভীষণ ভালো ছিল। ক্লাসের সেরা ছাত্র ছিল সে। আর তার শিক্ষকরাও তার বুদ্ধির খুব প্রশংসা করতেন। কিন্তু তার একটা বড় সমস্যা ছিল। সে শুধু সময় নষ্ট করতো। পড়াশোনায় মন দেওয়ার বদলে সে ঘন্টার পর ঘন্টা YouTube এ ভিডিও দেখতো, মোবাইলে গেম খেলতো আর বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াতো।
তার বাবা-মা তাকে বারবার বলতেন, "অর্ণব, সময়টা খুব দামি। এখন যদি অপচয় করিস, পরে কিন্তু খুব আফসোস করবি।" কিন্তু অর্ণব হেসে উড়িয়ে দিত। সে বলতো, "আরে, আমার তো অনেক সময় আছে। পড়াশোনা পরে করে নেব।"
একদিন তাদের ফাইনাল পরীক্ষার ফল বের হলো। যে অর্ণব একসময় ক্লাসে সবার উপরে থাকতো, এবার তার ফল দেখে সবাই অবাক হয়ে গেল। সে একদমই ভালো ফল করতে পারেনি। তার শিক্ষকরা খুব হতাশ হলেন, আর তার বন্ধুরাও তাকে এড়িয়ে চলতে লাগলো। বাড়ি ফিরে অর্ণব দেখল তার বাবা-মা চুপ করে তার রেজাল্ট দেখছেন। তাদের চোখে-মুখে ছিল শুধুই হতাশা।
অর্ণবের নিজের ভেতরটা কেমন যেন ডুমড়ে মুছলে গেল। সে মনে মনে ভাবল, "আমি তো পড়াশোনায় ভালো ছিলাম। তাহলে এমন কি হলো…?" সেই রাত্রে অর্ণব তার দাদুর কাছে গেল। দাদু ছিলেন একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। আর তার জ্ঞানের জন্য সবাই তাকে খুব শ্রদ্ধা করত।
অর্ণব দাদুকে বলল, "দাদু, আমি তো বুঝতে পারছি না আমি কেন ফেল করলাম।"
দাদু একটু হেসে বললেন, "বাবা, তোর বুদ্ধির কোন সমস্যা নেই। সমস্যা হচ্ছে, তুই সময়কে গুরুত্ব দিস নি।"
অর্ণব বলল, "কিন্তু দাদু, পড়াশোনা তো পরেও করা যায়, তাই না?"
দাদু মাখা নেড়ে বললেন, "না রে বাবা, সময়টা হলো নদীর পানির মত, একবার বয়ে গেলে আর কখনো ফিরে আসে না। শোন, একটা গল্প বলি।"
দাদু বললেন, "একটা বড় আন্তর্জাতিক কোম্পানির সিইও ছিল রনি। রনি খুব পরিশ্রমী ছিল, আর তার নিষ্ঠার কারণে সে এত বড় একটা সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিল। কিন্তু বড়লোক হওয়ার পর সে সময়কে আর গুরুত্ব দিল না। সে দেরি করে ঘুম থেকে উঠতো, দরকারি কাজগুলো ফেলে রাখতো, আর অফিস সামলানোর বদলে ঘন্টার পর ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়া দেখতো।
একদিন তার এক ব্যবসায়িক পরামর্শদাতাকে বললেন, 'রনি, তুমি তোমার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ সময় নষ্ট করছো। এখনো যদি না বদলাও, তোমার কোম্পানি ধ্বংস হয়ে যাবে।' কিন্তু রনি হেসে উড়িয়ে দিল। সে বলল, 'আরে, আমার হাতে তো অনেক সময় আছে। কাজ তো পরেও করা যাবে।' কয়েক মাস পর দেখা গেল কোম্পানির লাভ কমতে শুরু করেছে। রনির প্রতিযোগী কোম্পানিগুলো অনেক এগিয়ে গেল।
কোম্পানির কর্মীরা তার উপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলল। এমনকি যারা তার কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগ করেছিল, তারাও নিজেদের টাকা তুলে নিতে শুরু করল। রনি তখন চেষ্টা করল সবকিছু ঠিক করে নিতে, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সে সব হারালো। যখন সব হারিয়ে গেল, সে তার ফাঁকা অফিসে একা বসেছিল। তখন সে বুঝল তার সবচেয়ে বড় ভুলটা কোথায় ছিল—সে সময় নষ্ট করেছিল, আর সেই সুযোগটা হারিয়েছিল যখন সব ঠিক করতে পারতো।'"
গল্পটা শুনে অর্ণবের মনে যেন একটা আলো জ্বলে উঠল। সে মনে মনে বলল, "আমি তো রনির মতো হতে চাই না, বদলাতে হবে।"
দাদু মুচকি হেসে বললেন, "ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিস বাবা। যদি সময়কে ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারিস, তোকে কেউ আটকাতে পারবে না।"
সেই দিন থেকেই অর্ণব নিজেকে বদলাতে শুরু করল। সে একটা রুটিন তৈরি করল, মোবাইল আর ইউটিউব দেখা কমিয়ে দিল, আর মন দিয়ে পড়াশোনা করতে লাগলো। ধীরে ধীরে তার ফল ভালো হতে লাগলো, আর সে আবার ক্লাসের সেরা ছাত্র হয়ে উঠলো। কয়েক বছর পর অর্ণব একজন সফল উদ্যোক্তা হল। তার নিয়ম মেনে চলা জীবন আর সাফল্যের গল্প শুনে অনেকেই অনুপ্রাণিত হতো।
একটা কথা সে সারা জীবন মনে রেখেছিল—সময়ই হলো সফলতার চাবিকাঠি। একবার হারালে, তাকে
আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।

thanks for your opinion..💜💙💚🥀