🌸 উপন্যাস: "শেষ আলো"
(আমার জীবন থেকে নেওয়া)
অধ্যায় ১: প্রথম দেখা
রোদেলা দুপুর। লাইব্রেরির পুরোনো টেবিলে বসে বই পড়ছিলো অরিন্দম। চারপাশে অদ্ভুত এক নিস্তব্ধতা। ঠিক সেই সময় দরজার কাছে দাঁড়িয়ে এল এক মেয়ে— রূপসা। চশমার ফাঁক দিয়ে চোখে ছিলো এক ধরনের আত্মবিশ্বাস, আবার মিশে ছিলো সহজ সরলতা। অরিন্দম তাকিয়ে রইলো অবাক হয়ে। জানতো না, এই অচেনা মানুষই তার জীবনের সবচেয়ে স্পেশাল জায়গাটা দখল করবে।
অধ্যায় ২: পরিচয়ের শুরু
ক্লাস প্রজেক্ট নিয়ে দু’জনের আলাপ শুরু। কথার ফাঁকে ফাঁকে অরিন্দম টের পেলো, রূপসা আলাদা। তার চিন্তা, কেয়ার করার ভঙ্গি, ছোট ছোট খেয়াল— সবকিছু যেন ভিন্ন আলোয় ভরা। বন্ধুত্ব হতে সময় লাগেনি।
প্রতিদিনের চ্যাট, ছোট্ট ছোট্ট মেসেজ, একে অপরের খোঁজ নেওয়া— এইভাবেই তৈরি হতে লাগলো বন্ধুত্বের বাঁধন।
অধ্যায় ৩: বন্ধুত্বের রঙ
সময় যেন গড়ে তুললো এক অন্য জগৎ।
অরিন্দম বুঝতে শিখলো— রূপসার হাসি তাকে শান্তি দেয়।
রূপসা শিখলো— অরিন্দমের যত্ন তাকে নিরাপদ করে।
তাদের আলাপ কখনো বই, কখনো সিনেমা, কখনো জীবনের স্বপ্ন নিয়ে।
অরিন্দম রূপসাকে উপহার দিতো, ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করতো, তার ভালো-খারাপের খোঁজ নিতো।
আর রূপসা? সে সবসময় মনে করাতো— বন্ধুত্ব মানেই দায়িত্ব, কেয়ার, আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
অধ্যায় ৪: স্বপ্ন আর ভুল
কিন্তু পৃথিবীর প্রতিটি সুন্দর কিছুর মতো, এ গল্পের মাঝেও ঢুকলো ঝড়।
কথা ভুল বোঝাবুঝিতে রূপ নিলো, আর সেই ভুল বোঝাবুঝি বাড়ালো দূরত্ব।
অরিন্দমের অতিরিক্ত আবেগ অনেক সময় রূপসাকে অস্বস্তি করে তুলতো।
তৃতীয় কারও কাছে কিছু কথা বলাও সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরালো।
স্বপ্নগুলো একে একে থেমে গেলো।
কথোপকথন কমে গেলো।
দিনশেষে রূপসা বলতে শুরু করলো— "আমাদের মাঝে আগের মতো কিছু নেই…"
অধ্যায় ৫: নীরবতার শেষ পৃষ্ঠা
এখন অরিন্দম চুপচাপ।
মনে পড়ে যায় সেই প্রথম দেখা, প্রথম হাসি, সেই ছোট ছোট কেয়ারিং কথাগুলো।
রূপসা হয়তো জীবনের পথে এগিয়ে গেছে, কিন্তু অরিন্দম জানে— তার জীবনের এক বিশেষ অধ্যায় চিরদিন এই মেয়ের নামেই লেখা থাকবে।
শেষবার মনে মনে বললো—
“রূপসা, তুমি যে-ই হও, যেখানেই থাকো… তোমার জন্য আমার শুভকামনা সবসময় থাকবে। হয়তো একদিন আবার দেখা হবে, না হলে এই স্মৃতিগুলোই শেষ আলো হয়ে রবে।”

thanks for your opinion..💜💙💚🥀